কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায়, কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো: কিডনি রোগের লক্ষণ, কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ বা কিডনির সমস্যার লক্ষণ যাই বলেননা কেনো আজকে আমরা এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। তাছাড়াও আজকে আমরা জানবো কিডনির ব্যথা কোথায় হয় আপনাদের অনেকে প্রশ্ন আবার কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো ।
| কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায় | কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো |
এছাড়াও কিডনির ইনফেকশন এর লক্ষণ । এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো। তাই অবশ্যই আর্টিকেল টি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।
কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায়
কিডনির আরেকনাম বৃক্ক । কিডনি ছাড়া একজন মানুষকে বাঁচানো অসম্ভব। তাই প্রত্যেক ব্যাক্তিকে জানা জরুলী যে তার কিডনি ভালো আছে কি না। আপনার কিডনি ভালো আছে কি না পরীক্ষা করে জেনে নেওয়ার পাশাপাশি কিছু লক্ষন দেখে বুঝতে পারেন যে আপনার কিডনি ভালো আছে কি না।
এটা একটি sensitive বিষয় মনোযোগ সহকারে পুরো আর্টিকেল না পড়লে আপনরাই সমস্যা হতে পারে। কিডনি রোগের লক্ষণ সমূহ গুলো পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন কিডনি ভালো আছে কিনা তা বোঝার উপায়।
কিডনি রোগের লক্ষণ সমূহ :
কিডনির সমস্যা শুরু হলে প্রথমে আসলে না বোঝার কথা না শেষ পর্যায়ে চলে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সাধারণত কিডনির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ নষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখা যায়না অর্থাৎ একেবারেই অন্তিম মুহূর্তে এসে বুঝতে পারেন যে আপনার কিডনির সমস্যা হয়েছে কি না। তারপরও কিছু লক্ষন আছে যেগুলো কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগেও দেখা যেতে পারে।
এখন আপনারা জানতে চলেছেন কিডনির সমস্যার লক্ষণ। কি কি লক্ষণ দেখা দিবে আপনার কিডনি রোগ হলে বা কিডনির ড্যামেজ হলে। আপনার কিডনির সমস্যা হলে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে তবে এর মধ্যে কিছু লক্ষণ হচ্ছে :
১: প্রসাব সাথে ফেনা উঠা : কিডনির কাজ হচ্ছে রক্তে থাকা ময়লা আবর্জনার ছেকে প্রসাবের সাথে বাইরে বের করে দেয়া। আপনার যদি কিডনি ড্যামেজ থাকে তাহলে প্রচুর এ্যলভোমিন থাকে জার কারণে প্রসাবের সাথে প্রচুর ফেনা উঠে।
২: প্রসাব জ্বালাপোড়া করা : আমি আগেই বলেছি যে কিডনির সাথে মূত্রের সম্পর্ক রয়েছে। কিডনির সমস্যায় এটাও একটা লক্ষণ।
৩: প্রসাবের সাথে রক্ত যাওয়া : কিডনির সমস্যার কারণে প্রসাবের সাথে রক্ত যেতে পারে। যদিও এটা অন্য কারণেও হতে পারে। যেমন টিউমার সহ আরো বিভিন্ন কারণে।
৪: বারবার প্রসাবের বেগ আসা : যখন শরীলে বর্জ্য পদার্থ থাকে তখন শরীলে বারবার প্রসাবের বেগ দেয়। শরীলে বর্জ্য পদার্থ থাকে কারণ হিসেবে এটা কিডনির সমস্যাও হতে পারে।
৫: মাংসপেশিতে ক্রাম্প হওয়া বা মাংসপেশিতে টান খাওয়া : ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম এগুলোর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে যখন আপনার কিডনির সমস্যা থাকবে।
৬: কোমরের দুই পাশে প্রচন্ড ব্যাথা হওয়া : কোমরের দুই পাশে প্রচন্ড ব্যাথা হতে পারে এটা যদিও অন্য কারণেও হতে পারে। এটারও কিছু লক্ষণ আছে যে লক্ষণ গুলো আমরা নিচে আলোচনা করবো। তবে একটা কথা বলে রাখি যদি আপনার কোমরে ব্যাথা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।
৭: পায়ে পানি আসা : কিডনির একটা অন্যতম কাজ হচ্ছে শরীরের পানির ব্যালান্স রাখা। যদি কিডনি ভালোভাবে কাজ না করে তাহলে কিডনি শরীর থেকে পানি ভালোভাবে বের করতে পারছেনা। যার কারণে পায়ে পানি আসে কিংবা চোখের নিচ ফুলে যায়।
৮: গা চুলকানো : শরিলের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে তা না এটা শরিলের এলকট্রোলাইট ব্যালান্স করে। এলকট্রোলাইট যদি আনব্যালান্স হয়ে যায় তাহলে বিভিন্ন সমসসা হয় জার কারণে গা চুলকাতে পারে।
৯: দেহ ফুলা ভাব : আমি আগেই বলেছি শরিলের কিডনির কাজ হচ্ছে শরিলের পানি নিয়ন্ত্রণ করা। যে কারণে আসলে পা ফুলে মূলত সে কারণে। দেহ ফুলে যায়
১০: সবসময় ঠান্ডা অনুভব করা : কিডনির সমস্যা হলে সবসময় শীত শীত লাগতে পারে।
উপরের এই লক্ষণ গুলো থাকলেই যে আপনার কিডনির সমস্যা হতে পারে এমন কোনো কথা না। এই সমস্যা গুলো বিভিন্ন কারণে হতে পারে অযথা টেনশন করবেন না। যদি এই লক্ষণ গুলো আপনার মধ্যে থাকে এবং আপনার মনে আপনার কিডনির সমস্যা আছে তাহলে আগে আপনি ডাক্তারকে দেখিয়ে পরীক্ষা করুন।
দুটি পরীক্ষা করার মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে যে আপনার কিডনি রোগ আছে কি না। একটি হচ্ছে প্রসাব পরীক্ষার মাধ্যমে। রক্তের ক্রিয়েটিনেন থেকে অ্যাকারটলি হিসাব করে যে ১০০ ভাগে কত ভাগ কিডনি কাজ করছে।
কিডনির ব্যাথা কোথায় হয়
আপনাদের আবার অনেকের প্রশ্ন যে কিডনির ব্যাথা কোথায় হয়। অনেকের সাধারণ কোমরে ব্যাথা হলে তারা কিডনির ব্যাথা মনে করেন। কারণ কিডনি আর কোমরের ব্যাথা প্রায় একই জায়গায় হয়ে থাকে তাই আসলে বুঝতে অসুবিধা হয়। তবে এর কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখে আপনারা বুঝতে পারেন এগুলো কিডনির ব্যাথা নাকি কোমরের ব্যাথা।
কিডনির ব্যাথা হলে আপনার প্রসাব দুর্গন্ধ আসতে পারে এমনকি প্রসাব রক্তও আসতে পারে। আবার প্রসাব হলুদ হতে পারে আবার হলুদ হলেই মনে করিয়েননা যে আপনার কিডনির ব্যাথা। বেশি করে পানি খেয়ে দেখেন যদি প্রসাব আবার সাদা হয় তাহলে এটা কিন্তু কিডনির সমস্যা নয়। কোমরের ব্যাথা কিডনি থেকে পা পর্যন্ত হতে পারে কিন্তু কিডনির ব্যাথা কখনো পা থেকে মাথা পর্যন্ত হতে পারে।
আরো বিভিন্ন সমস্যা লক্ষণ দেখা যেতে পারে। তাহলে আমি আগেও বলেছি যে কোমরের আশেপাশে ব্যাথা দেখলেই আপনি একজন ডাক্তার এর সমুঃখিন হন । কারণ এটা কোমরের ব্যাথাও হতে পারে কিংবা কিডনির ব্যাথাও হতে পারে।
কিডনি ইনফেকশন এর লক্ষণ
কিডনির ইনফেকশন হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন। এর কিছু লক্ষণ আছে যা দেখলে আপনি কিছুটা নিশ্চিত হতে পারেন যে আসলে আপনার কিডনির সমসসা হয়েছে কি না। কিডনির ইনফেকশন কিছু প্রকারভেদ রয়েছে যা এখানে আমরা আলোচনা করবোনা। আমরা মাত্র এখানে কিছু লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করবো।
বাথরুম চাপ দিলে ধরে রাখতে পারবেনা সাথে সাথে বাথরুমে যাবে। অল্পএকটু চাপ দিলে মনে হবে যে বাথরুম থেকে আসি। আপনার পায়খানার অনেক দুর্গন্ধ হতে পারে। জোর আসতে পারে। পায়খানার সাথে রক্ত আসতে পারে। ইত্যাদি আরো অনেক লক্ষণ দেখা দিতে পারে শুধু এখানেই শেষ নয়।
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো
মানবদেহে কিডনির গুরুত্ত অপরিসীম। কিডনির কিছু মৌলিক কাজ আছে যা আপনি মানবদেহের জন্যে খুবই গুরুত্তপূর্ণ। কিডনি মানবদেহের বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বাইরে বের করতে সাহায্য করে। মানবদেহে প্রজেনিক নামে এসিডের স্তর নিয়ন্ত্রণ করে। মূত্রনালীর সাথে কিডনির অনেকটা সম্পর্ক রয়েছে। কিডনি আপনার শরীরের ক্যালসিয়ামও নিয়ন্ত্রণ করে।
আপনাকে প্রথমে জানতে হবে ক্রিয়েটিনেন সাভাবিক মাত্রা কত। ক্রিয়েটিনেন এর সাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ০.৪ থেকে ১.২ এমজি/ডিএল। তো আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো।
আমার কিছু কথা:- তো আশা করি আপনি যা খুঁজেছেন তা পেয়ে গিয়েছেন। এরপরও কোনো সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন। কারণ এগুলো খুবই সেনসিটিভ বিষয়। ডাক্তারের সাথে খোলামেলা ভাবে কথা বলে ডাক্তারকে আপনার সমস্যার কথা বলুন আশা করি আপনার সমস্যা বুঝে আপনাকে সঠিক গাইডলাইন দিতে পারবেন। তো এই ছিল আজকের আর্টিকেল।